আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী?

সে দিন যদি আপনি পরিবর্তনের পক্ষে রাস্তায় নেমে থাকেন, তাহলে আজ আপনার শাসক দলের সব সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিতে হবে৷ কোনও কিছু না-পছন্দ্ হলে চলবে না৷ তা  না হলে সেদিন আপনি পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন কেন? একবার সমর্থন করা মানে এবার তার সব কিছু মেনে নিতে হবে৷ বোধ বুদ্ধি সব বিসর্জন দিতে হবে৷ সহজ পাটিগণিত৷ আচ্ছা, মানুষ কি বন্ধ ঘড়ি৷ সার ক্ষণ কি একই টাইম দিতে হবে? এই যে সারাক্ষণ গলা ফাটাই আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী৷ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য আমাদের মর্জায়৷ তাই তো আমরা ‘তর্কপ্রিয় ভারতীয়’৷ বহু মত আর বহু স্বর নাকি আমাদের ঐতিহ্য৷ বাস্তবে আমরা বেশিরভাগ মানুষই বিরুদ্ধ মত সহ্য করতে পারি না৷ আর বিরুদ্ধ স্বর দু-চোখের বিষ৷ আমার সঙ্গে গলা না মেলালেই আপনি প্রতিপক্ষ হয়ে গেলেন৷ তখন আমার যত্নে লালিত বিদ্যা-বুদ্ধি-ঐতিহ্য সব আমি নিমেষে ভুলে যেতে পারি৷ যেমন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বেলাতে আমি ও আমরা তা করে দেখালাম৷ ওনার আলাদা কোনও মতাতম থাকবে কেন? কেন সঙ্ঘ নিয়ে আগের মতের সঙ্গে একমত হবেন না? তা হলে আগে ভিন্ন মত পোষন করেছিলেন কেন? উনি তো একটা বন্ধ ঘড়ি৷ কোনও অবস্থাতেই আলাদা মতামত পোষন করতে পারেন না৷ তা ছাড়া, আরএসএস-র  মতো সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যেতে গেলে এত দিন যে দলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তাদের অনুমতি কি আবশ্যিক? সব কিছু দেখেশুনে তো মনে হয় ‘অনুমতি’ প্রয়োজন৷ মনে রাখবেন, আমরা সবাই ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে বিশ্বাস করি৷ এমনকি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এহেন সিদ্ধান্তে বিচার-বুদ্ধি-বিবেচনা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারি অনায়াসে৷ প্রশ্নকর্ত্রী স্বয়ং প্রণব-কন্যাও৷ বাবার বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন সংবাদমাধ্যমে৷ মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু বিরুদ্ধ মতকে গুরুত্ব দিই৷ কারণ, আমাদের ইতিহ্যে বহুস্বর৷ অনেকেরই খুব গা জ্বলছে না? সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে৷ তুমি আমাদের লোক নইলে প্রতিপক্ষ… গোছের সওয়াল করছেন অনেকেই৷ হাসি পাচ্ছে না? কারণ, মনে রাখবেন আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী৷

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment