কসবার খুনের ঘটনাকে দুর্ঘটনার চেহারা দিতে চেয়েছিল আততায়ী, কী ভাবে?

দুবেলাঃ কসবায় কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারীক শীলা চৌধুরীকে খুনের পর গোটা ফ্যাটটি নিপুন ভাবে সাজিয়ে তুলেছিলেন৷ যাতে খুনি পালানোর পর একটি দুর্ঘটনা ঘটে৷ আপাতদৃষ্টিতে দেখে যেন মনে হয়, সেই দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছে বছর ছাপ্পান্নর শীলাদেবীর৷ চিত্রনাট্য ঠিকঠাক মিলে গেলে বিস্ফোরণের আওয়াজে আশপাশের লোকজন ছুটে আসতেন৷ আর গৃহকর্ত্রীর দেহ হয়তো অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হত৷ কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন গ্যাসের সিলিন্ডারের চাবির সঙ্গে কায়দা করে বাঁধা রয়েছে গামছা৷ সিলিন্ডারের সঙ্গে অভেনের সংযোগকারী পাইপটাো খোলা৷ আর একটু হলেই সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়বে গ্যাস৷ তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাড়াহুড়োতে হয়তো সবটা ঠিকমতো কার্যকরী করে উঠতে পারেনি আততায়ী৷ কিছুক্ষণের জন্য শীলাদেবীর পরিচারক বাইরে বেরতেই এত কাণ্ড৷ ওই সময় অর্থাত্ শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ কসবার পাঁচতলা বাড়িটির তিনতলার ফ্ল্যাটে দেখা করতে আসেন শীলার এক বন্ধু৷ তাঁর দেওয়া বয়ান অনুসারে, দরজা তখনও ভিতর থেকে বন্ধ৷কলিং বেলের সুইট অফ৷ ধাক্কাধাক্কি করেও কোনও আওয়াজ পাওয়া যায়নি৷ নকল চারি সংগ্রহ করে ফ্ল্যটটি খোলা হয়৷ খবর দেওয়া হয় কসবা থানায়৷ পুলিশ এসে দেখেন, ক্ন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাটমোর বড়কর্তা শীলার নিথর দেহ রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে আছে৷ পরনে নাইটি৷ পাশের এরও একটি পোশাক অর্ধেকটা অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে৷ তা হলে কি আততায়ী রান্নার গ্যাসের মাধ্যমে পুরো ফ্ল্যাটটি পুড়িয়ে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ছক কষেছিল? প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা অন্তত তেমনটাই মনে করছেন৷ প্রতি সপ্তাহান্তে কসবার এই ফ্ল্যাটে ঘুরে যেতেন শীলা৷এদিনও তেনটাই এসেছিলেন৷ সে সময়ে কে বা কারা এসেছিলেন ফ্ল্যাটটিতে? কারও সঙ্গে কি শীলার ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে? এই সমস্ত প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজে চলেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা৷

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment