সহজ শেয়ারঃ দামের গতিবিধি বুঝতে ক্যান্ডেল বুঝুন

দুবেলা, যে কোনও উত্থান পতনের ক্ষেত্রে এক্কেবারে খাড়া উপরের দিকে উঠবে, অথবা নিমেষে সোজা নিচে নেমে যাওয়া যাবে এমনটা হতে পারে না। মাঝে কোথাও বাধা থাকে, কোথাও হয়তো কিছুটা পথ মসৃন, আবার কিছুটা ওঠার পর ফের খানিকটা অবতরণ,  এরকম অনেক কিছুই হতে পারে। পাহাড়ের গঠনশৈলী যেমনটা হয়। যেকোনও চড়াই ‌‌ চড়াই উতরাইয়ের নিয়মটাই এমন। দামের ওঠাপড়াও এই নিয়মের বাইরে নয়। সারা বছরে আলুর দামের কথা ভাবুন । যখন ফলন হল,  তখন দাম কমে তলানিতে। মাস দুয়েক বাদে কিছুটা বাড়ল। আবার থমকে থাকা। কিছুদিন পরে হয়তো দু’টাকা কমেও গেল। ফের উত্থান। পুজোর পরে তো দাম এক্কেবারে শিখরে। শেয়ারের দামের চলনও এরকম উত্থান পতনে ভরা।  আর মুনাফা তোলার প্রাথমিক শর্তই যেহেতু কম দামে কেনা,  বেশি দামে বেচা।  সেক্ষেত্রে দামের গতিবিধি বেঝাটা জরুরি। দামের চলন বুঝতে গেলে গোড়াতে ‘ক্যান্ডেল’ জানতে হবে। বাংলায় যাকে বলে মোমবাতি তার আকৃতি দিয়ে অনেক কাল আগে থেকেই জাপানিরা দামের চলন নথিভূক্ত করা শুরু করেন। যেহেতু জাপানিদের উদ্ভাবন, তাই দুনিয়া জুড়ে এই পদ্ধতি ‘জাপানিস ক্যান্ডোলিস্টিক থিওরি’ নামে পরিচিত। কালে কালে জাপানিদের ‘ক্যান্ডেল’ নামটি সাহেব পণ্ডিতদের হাত ধরে ‘বার’ অথবা ‘পাইপ’ নাম ধারণ করেছে। যাই হোক, শেয়ারের দামের গতিবিধি বোঝার গোড়াতে আপনাকে ক্যান্ডোল বুঝতে হবে। এই বেলা বলে রাখি, শেয়ারের দামের চলন বোঝাতে বিভিন্ন চার্ট হয়,  যার মধ্যে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এক একটা সময়কালের জন্য (অর্থাত মিনিট থেকে শুরু করে দিন,  হপ্তা, মাসের) ক্যান্ডেলের মাধ্যমে তখনকার দামের উচ্চতা,  সর্বনিম্ন দাম, খোলার সময়ে কী দাম ছিল, বন্ধের সময়ে কী দাম,  দাম বেড়েছে নাকি কমেছে এই সব কিছু বোঝানো যায়। কী ভাবে?

  1. সবুজ বা সাদা রঙের ক্যান্ডেলের অর্থ হল দাম বেডেছে। লাল বা কালো রঙের ক্যান্ডেল দাম কমার ইঙ্গিত করে।
  2. ক্যান্ডেলের ওপরের দিকের ‘টেল’ বা ‘আপার শ্যাডো’, বাংলায় লেজ বলে দেয় কোন উচ্চতা অব্দি দাম ছুঁয়েছিল। আর নিচের লেজ, অর্থাত্ ‘লোয়ার শ্যাডো’ জানান দেয় কত নিচে দাম গিয়েছিল।
  3. ক্যান্ডেলের যে ‘রিয়েল বডি’ অর্থাত্ শরীর তা ‘ওপেন’ ও ‘ক্লোজ’  বা ক্যান্ডেলের সময়কালের শুরু ও শেষের দাম নির্দেশ করে।
  4. দাম রিয়েল বডির নিচ থেকে শুরু হয়ে ওপরে বন্ধ হয়েছে, অর্থাত সবুজ বাতি। আর লাল বাতি জ্বলে যাওয়ার অর্থ ক্যান্ডেলের বডির ওপরে ওপেনিং এবং নিচে ক্লোজং। সঙ্গে দেওয়া ছবিতে দেখুন।
  5. যে ক্যান্ডেলের শরীর নেই বুঝতে হবে তার দামের ওপেন ও ক্লোজ একই জায়গাতে।

ক্যান্ডোল চিনে গেলেন,  এবার শেয়ারের চার্ট দেখার মতো সাইটে গিয়ে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট খুলুন। অধিকাংশ সাইটে চার্ট খুললেই আপনা থেকে ক্যান্ডেলিস্টিক চার্ট খুলবে। ক্যান্ডেলের ওপরে কার্সার নিয়ে গেলে ওই ক্যান্ডেলের দামের ফিরিস্তি পেয়ে যাবেন। গোডা়তে ‘ডে ক্যান্ডেল’  সিলেক্ট করুন। অর্থাত এক দিনের জন্য একটি ক্যান্ডেল। একটা ক্যান্ডেলের সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক, ক্যান্ডেলের আচরণ তাকে দামের গতিবিধি আঁচ করা,  এসব পরে জানা যাবে।

সতর্কীকরণ – বাজার ও শেয়ার সংক্রান্ত ধারণা প্রতিবেদকের নিজস্ব৷ শেয়ার বাজারে আপনার কোনও ধরনের বিনিয়েগ বা সওদা নিয়ে প্রতিবেদক বা দুবেলা কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই দায়ী থাকবে না৷  নিজের বুদ্ধি, বিবেচনা, অভীজ্ঞতা অথবা আপনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী বিনিয়োগ করুন৷

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment