মিছে দোষারোপ, নিজের কর্মফল

বেশ কয়েক দিন আগের কথা৷ বর্ষা নামার আগে হওড়ার নিকাষি ব্যবস্থা ঠিক করার কাজে হাত লাগিয়েছিল পুরসভা৷ এমনিতেই হাওড়া পুর এলাকার বেশ কয়েকটি জায়গাতে জল জমার রেকর্ড রয়েছে৷ এই নিয়ে জনমানসে ক্ষোভও নতুন নয়৷ তাই আগে থেকে সবধান হওয়া ভাল৷ নালা পরিস্কারের সময় যা অভিজ্ঞতা হল তাতে উপস্থিত অনেক পুরকর্মীদের চক্ষু চড়কগাছ৷ প্লাস্টিকের বর্জ, মূলত বোতল রাখার জায়গা নেই৷ গাদাগাদি করে সব নালার জলের সঙ্গে সহাবস্থান করছিল৷ কমবেশি এ ছবি সমস্ত পুর এলাকারই৷ বেশ কয়েকটি এফএম চ্যালেনে কান পাতলেই শোনা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দফতরের নিষেধাজ্ঞার কথা৷ অন্তত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷ কিন্তু কার কথা কে শোনে৷ এই তো কদিন আগে এক্কেবারে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশের ঘটনা৷ রাতভোর নালা থেকে ভুরি ভুরি প্লাস্টিক বর্জ তুললেন পুর নিকাষি দফতরের কর্মীরা৷ সে দিন তেমন ভারি বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে৷ তাতেই জল জমে গিয়েছিল হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে৷ শুনেছি, বাড়ি ফেরার পথে জমা জল দেখে মুখ্যমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন৷ সেই থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গাতে এখনও অবধি কাজ চলছে৷ রাস্তার দুপাশে ডাঁই হচ্ছে কাদামাখা প্লাস্টিক৷ এগুলো সব আমার আপনার হাত থেকে ওই নালা অবধি গিয়েছে৷ অথচ জল জমার বেলায় সে হাওড়াই হোক আর কলকাতা আমরা আঙুল তুলবো সেই পুরসভার দিকে৷ আইন করে কি সব সমস্যার সমাধান হয়? প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে আমরা যত দিন না বিরত হবো, তত দিন জল জমার সমস্যা একই জায়গাতে থাকবে৷ কী ভাবছেন? আপনি একা নিয়ম মেনে কী করবেন? এভাবেই তো পরিবর্তন হয়৷ নিজের কাছে নিজে তো কৈফিয়ত্ দিতে পারবেন৷ কথায় কথায় তো অমরা অন্যের কত ভুল ধরি, দুনিয়া পরিবর্তনের নিদান দিই, অথচ নিজেকে এতটুকু শুধরে নিতে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে নিজেকে একটু পরিবর্তন করতে পারবো কি?

Related posts

Comment here