জয় দিয়ে শুরু নতুন বছর কোহলি ব্রিগেডের

দুবেলা, নিশান মজুমদারঃঃ   বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় বেশ কিছুটা আশাহত হয়েছিল ভারতীয় ব্রিগেড। কিন্তু দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে সেই ক্ষোভ পূরণ করে নেয়। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ের ভালো প্রদর্শন করলেও ভারতীয় বোলিং এর কাছে মাথা নত করতে হয় শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইনআপকে। ওভারের প্রথম বলে ছয় খাওয়ার পরও ওই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেয় চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব। শেষ ওভারে তিন উইকেট তুলে নেয় শার্দুল ঠাকুর’ও।

ভারতীয় বোলিংয়ে বেশ কিছুদিন পর ফেরত আসেন বুমরাহ, তিনিও তুলে নেন একটি উইকেট। কিন্তু অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় খরচ করেন বেশি রান। শ্রীলংকার হয়ে গুনাথিলাকা করেন ২০ রান, অভিস্কা ফার্নান্দো করেন ২২ রান, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা করেন ৩৪ রান। এর পর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। কিন্তু ধনঞ্জয় ডি-সিলভা ও হাসারাঙ্গার কাঁধে ভর করে লড়াই যোগ্য রান দার করাতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা। ২০ ওভার শেষে রান সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪২, ৯টি উইকেটের বিনিময়।

১৪৩ রান তাড়া করতে মাঠে নামে শিখর ও রাহুল এর জুটি। শিখর ধাওয়ান বেশ কয়েক মাস পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামে। প্রথম ওভার বল করতে এসেই মালিঙ্গা একের পর এক ইয়োর্কার করতে থাকেন। কোনরকমে সামাল দেন শিখর ধাওয়ান। পুরো ওভার ভালো হলেও শেষ বলে ওভার থ্রো-র ফলে ৪ রান আসে ভারতের ঝুলিতে। শিখর ধাওয়ানের উপর থেকে চাপ কমানোর জন্য পরের ওভারে আক্রমণ করতে থাকে কে এল রাহুল। দুর্দান্ত ছন্দে ব্যাট করতে থাকে কে এল রাহুল।

একের পর এক কপিবুক স্টাইলে কভার ড্রাইভ মেরে রান সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। কে এল রাহুল পাওয়ার প্লের সম্পূর্ণ সুযোগ নিয়ে আক্রমণ করতে থাকে শ্রীলঙ্কান বোলারদের। তাকে যোগ্য পার্টনারশিপ দেয় শিখর ধাওয়ান। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের রান হয় ৫৪ বিনা উইকেটে। শ্রীলংকান বোলিং ও ফিল্ডিং এর বজ্র আঁটুনি তে রান করা চাপের হলেও, সিঙ্গেল এর ওপর স্কোরবোর্ড চালাতে থাকেন দুই ব্যাটসম্যান। চাপের মুখে রান করতে গিয়ে হাসারাঙ্গা এর গুগলিতে পরাজিত হন কে এল রাহুল।

৪১ রানে শেষ হয় রাহুলের দুরন্ত ইনিংস। এরপর ক্রিজে আসেন শ্রেয়াস আইয়ার। ব্যাটিং-এর আক্রমনাত্মক ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করেন দুই ব্যাটসম্যানই। দুজনেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে শুরু করেন, কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান শিখর ধাওয়ান। এরপর মাঠে নামেন ক্যাপ্টেন কোহলি।

এরপর কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার মিলে তুলোধোনা করতে থাকেন শ্রীলঙ্কান বোলারদের। একের পর এক নজরকাড়া শটের মাধ্যমে রান করতে থাকেন শ্রেয়াস আইয়ার ও কিং কোহলি। ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ৬ আসে থেকে শ্রেয়াস আইয়ার এর ব্যাট থেকে। লং অন ও লং অফের উপর দিয়ে উড়ে যায় প্রথম ৬টি। ভারতীয় ইনিংসে রানের গতি কমানোর জন্য বোলিংয়ে আসেন স্বয়ং শ্রীলঙ্কান ক্যাপ্টেন মালিঙ্গা।

কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয় না। কোহলি তাকে স্বাগত জানায় প্রথম বলেই চার মেরে এবং এরপর একটি দুর্দান্ত বাউন্সার মেরে কোহলিকে চ্যালেঞ্জ জানায় মালিঙ্গা। সেই চ্যালেঞ্জের যোগ্য জবাব দেন কোহলি। ডিপ মিড ফিল্ডারের উপর দিয়ে স্ট্যান্ডে ৬ পাঠান কোহলি।

এরপর কুমার আর বাউন্সার সামলাতে না পেরে শ্রেয়াস আইয়ার ডিপ মিডফিল্ডারের হাতে ধরা পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান আইয়ার। শেষ হয় ৩৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস। ব্যাট করতে নামেন ঋষভ পান্থ। ব্যাট করতে নেমে এক রান নিয়ে কোহলিকে স্ট্রাইক ফিরিয়ে দেন পান্থ। পরের বলে ছয় মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দেন। বিরাটের বিরাট ছয় বছরের প্রথম জয় পাইয়ে দিলো ভারতকে। ম্যাচের সেরা নবদ্বীপ সাইনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:-
শ্রীলঙ্কা:- ১৪২/৯ (২০ ওভার)
ভারত:- ১৪৪/৩ (১৭.৩ ওভার)

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Comment here