চলে গেলেন পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়, চোখে জল ময়দানের

দুবেলা, নিশান মজুমদারঃ ক্রীড়া জগতে নেমে এলো শোকের ছায়া। পরলোক গমন করলেন পি কে বন্দোপাধ্যায়। দীর্ঘ দিন ধরে জীবন যুদ্ধে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সকাল ১১.৪০মিনিটে জীবনাবসান ঘটে তার। প্রয়ান কালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

ফুটবলের হাত ধরে ময়দানে প্রবেশের পর প্রদীপ কুমার বন্দোপাধ্যায় থেকে পরিবর্তিত হয় পি কে-তে। ময়দানে তার পরিচয় শুধু মাত্র একজন ফুটবলার বা কোচ হিসেবে নয়, তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যার প্রতিটি অধ্যায়ই বর্ণময়।

খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যাত্রা শুরু বিহার থেকে ৷ বাংলায় এসে তিনি এরিয়ান ও পরে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন তিনি ৷ জাতীয় দলের জার্সিতে  ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ অবধি খেলেছিলেন প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ৮৪টি ম্যাচ খেলে ৬৫ গোল ছিল তাঁর, মূলত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন তিনি ৷ ১৯৬৪ এশিয়ান গেমসের স্বর্ন পদক জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি ৷ তবে এর আগে ১৯৬০ – এ অলিম্পিক গেমসে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের সন্মান পেয়েছিলেন তিনি।

ফুটবলার হিসেবে কলকাতার দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাবে খেলা না হলেও বা খ্যাতির শীর্ষে পৌছাতে পারলেও তিনি কোচিং করিয়ে খ্যাতির শিখরে উ্ঠে ছিলেন ৷ ইস্টবেঙ্গলের হাত ধরে কোচিং জীবনের শুরু হলেও সবুজ-মেরুনের কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্য সবচেয়ে বেশি। একই বছরে আইএফএ শিল্ড, রোভার্স কাপ, ডুরান্ড কাপ জিতে মোহনবাগানকে ত্রিমুকুট এনে দিয়েছিলে তিনি ৷ এরপর জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৭২ সালে। তাঁর কোচিংয়েই ভারত ১৯৭২ সালের অলিম্পিকের কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলতে শুরু করে। ১৯৮৬ পর্যন্ত ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

https://twitter.com/EBRPFC/status/1240909746250477568?s=20

তিনি ১৯৬১-তে অর্জুন পুরস্কার পান, ১৯৯০ সালে পান পদ্মশ্রী। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অন্ড স্ট্যাটিক্সের বিচারে বিংশ শতকের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন পি কে বন্দোপাধ্যায়। ২০০৪ সালে ফিফার সর্বোচ্চ সম্মান ফিফা অর্ডার অব মেরিট পান পিকে।

Spread the love

Related posts

Comment here