করণ জোহারের ‘কলঙ্ক’ ছবি প্রথম দিনেই কত আয় করলো জানেন!

দুবেলা, সম্পূর্ণা সাহাঃ ১২ মার্চ ট্রেলার রিলিজের পর করণ জোহার বলেছিলেন ‘কলঙ্ক’ ছবিটি হল তার ড্রিম প্রজেক্ট। কিন্তু জানতে চান কি এই ছবি করণের ড্রিম কতটা পূর্ণ করতে পারল? ট্রেড এক্সপার্ট তরণ আদর্শের তালিকা অনুযায়ী এই ছবিটি ওপেনিং ডে কালেকশনের নিরিখে জানা যায় সব সিনেমাকে পিছনে ফেলে ‘কলঙ্ক’ এখন শীর্ষে। ছবিটি মুক্তির প্রথম দিনেই বাণিজ্য করেছে ২১.৬০ কোটি টাকা।তবে চারদিনে বাজার কিছুটা কমেছে। চারদিনে এই ছবিটি বক্স অফিসে ৫০ কোটি পার করেছে।

কিন্তু এতো গেলো ব্যবসার কথা প্রথম দিন ছবিটি দেখে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানেন? ১০০% এর মধ্যে ৮০% দর্শক জানিয়েছেন এই ছবি একবারের বেশি দেখার নয়, ১০% দর্শক ছবিটি দেখে কি বলবেন সেটাই বুঝতে পারলেন না, এবং বাকি ১০% বলেছেন খুব ভালো হয়েছে ছবিটি।

এবার ছবির গল্পটি নিয়ে আলোচনা করা যাক প্রথমত, আগেই বলে রাখি পরিচালক অভিষেক বর্মণ কার সিগনেচার স্টাইল অর্থাৎ সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর নাকি করণের অনুকরণ করবেন সেটা নিয়ে যে পুরো ছবিটাতেই তিনি ধোয়াসাতে ছিলেন তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ছবিতে।

দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে এই ছবির গল্প। অধুনা পাকিস্তানের লাহোরের কাছে হুসনাবাদ শহরকে নিয়ে এই গল্প। কিন্তু অবিশ্বাস্য একটি কারণ হল স্বাধীনতার আগে একটি ইংরেজি দৈনিক কাগজের মালিকের লাইফ স্টাইল। তার বাড়ি, তার ঠাট-বাট, তার চালচলন এবং তার জীবন-যাপন যে কোনও সুলতানকে লজ্জা দিতে পারে। তো সেই মানুষটি হলেন বলরাজ অর্থাৎ সঞ্জয় এবং তার পুত্র হল দেব অর্থাৎ আদিত্য আর আদিত্যর স্ত্রী সত্য হল সোনাক্ষী। এরা ছাড়া ওই প্রাসাদে আর কেউ থাকেন না। বিলিতি গাড়ি কিংবা ঘোড়ায় টানা শৌখিন কোচে চেপে তারা যাতায়াত করেন। গল্পটা শুরু হল যখন সত্য জানতে পারে সে ক্যানসার আক্রান্ত এবং বাঁচবে আর মাত্র এক বছর। অতএব, সে নিজের মৃত্যুর আগে স্বামী দেবের আরও একবার বিয়ে দিতে চান। সেই মেয়েটি হল রূপ অর্থাৎ আলিয়া। বিপদ হল এই দেব এতই স্ত্রী ভক্ত যে সে স্পষ্ট রূপকে জানিয়ে দিল এই বিয়ে আসলে সমঝোতার। রূপ যেন কোনও মতেই এর বেশি কিছু প্রত্যাশা না করে তার থেকে।

সেই শহরে একই সঙ্গে থাকে বাঈজি বাহার বেগম (মাধুরী) এবং তার পুত্র জাফর (বরুণ)। গণ্ডগোলটা এর পরেই। স্বামীর ভালোবাসা না পেয়ে একাকী রূপ প্রেমে পড়ে যায় জাফরের। জাফর আবার পেশায় কামার। সে কাজ করে আবদুল (কুণাল)-এর অধীনে। যখন একটা পরকীয়া প্রেমের গল্প জমে উঠেছে, সেই সময় জানা যায়, জাফর রূপের সঙ্গে প্রেম করার ছল করছে বলরাজের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। কেন জাফর প্রতিশোধ নিতে চায় এবং সে শেষ পর্যন্ত সফল হবে কিনা এটা ঘিরেই ছবির আসল নাটক।

সুতরাং এই ধরনের ছবিতে যুক্তি খুঁজতে যাওয়াও যুক্তিহীন। ছবি শুরুর আধঘণ্টার মধ্যে দর্শক গোটা গল্প এবং তার পরিণতি আঁচ করে নিতে পারবেন। সেই আধঘণ্টায় কিন্তু দুটো গানও হয়ে গিয়েছে। বাকি ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট বসে বসে ছবিটিকে সহ্য করা সবার কাছে বিরক্তিকর।

ছবিতে অভিনয় নিয়ে কিছু বলার নেই গল্প না থাকার কমতিটা সবাই চেষ্টা করেছেন অভিনয় দিয়ে পূরণ করার। মাধুরী, সঞ্জয়ের কথা নতুন করে বলে লাভ নেই। আলিয়া ভট্ট এমন এক জন অভিনেতা, তাঁকে যে পাত্রেই রাখা হোক, তিনি সেই পাত্রের আকার ধারণ করেন। বরুণের মধ্যে একটা রাগেড ব্যাপার আনার চেষ্টা করা হয়েছে, নিজের লুক এবং অভিনয় দিয়ে তিনি সেখানে সফল। ছবিতে সোনাক্ষী সিংহ খুব কম সময়ের জন্য রয়েছেন। সেই সময়টুকু তাঁর সৌন্দর্যের মাধুর্য মুগ্ধ করে রাখে। আদিত্য রায় কপূরকেও ভাল লাগে।

সুতরাং এবার আপনাদের সিদ্ধান্ত ছবি দেখতে যাবেন কি না।

পরিচালনা: অভিষেক বর্মণ
প্রযোজনা: ধার্মা প্রডাকশনস, ফক্স স্টার স্টুডিও
অভিনয়: আলিয়া ভাট, বরুণ ধাওয়ান, আদিত্য রায়কাপুর, সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত, সোনাক্ষী সিনহা, কুণাল খেমু
★★★

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment