সেদিন রাতে কি হয়েছিল নির্ভয়ার!

দুবেলা, নিশান মজুমদারঃ  ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১২:- একটি বেসরকারি বাসে প্যারা মেডিক্যাল ছাত্রী ‘নির্ভয়া’-কে গণধর্ষণ ও নৃশংস অত্যাচার করে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ছয় দুষ্কৃতী। সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হল নিগৃহীতাকে। বাস থেকে ফেলে দেওয়া হল তার পুরুষ সঙ্গীকে।

১৭ই ডিসেম্বর, ২০১২:- অপরাধীদের করা শাস্তির দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু। চার অভিযুক্ত, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্তা, বাসচালক রাম সিং, তার ভাই মুকেশকে চিহ্নিত করা হল।

১৮ই ডিসেম্বর, ২০১২:- রাম সিং সহ তিনজন গ্রেপ্তার।

২১শে ডিসেম্বর, ২০১২:- গণধর্ষণে অভিযুক্ত এক কিশোরকে দিল্লির আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাল থেকে আটক করলো পুলিশ। অন্যদিকে, ষষ্ঠ অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুরের খোঁজে হরিয়ানা ও বিহারে তল্লাশি শুরু।

২১-২২শে ডিসেম্বর, ২০১২:- বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হল অক্ষয়কে। অন্যদিকে হাসপাতালে জবানবন্দি রেকর্ড করা হল নির্যাতিতার।

২৬শে ডিসেম্বর, ২০১২:- হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নির্ভয়াকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে গেল সরকার।

২৯শে ডিসেম্বর, ২০১২:- প্রাণ হারালেন নির্যাতিতা। এফএইআরে খুনের ধারা যোগ করল পুলিশ।

৩রা জানুয়ারি, ২০১৩:- পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তর জন্য চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। এতে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি সহ একাধিক অপরাধের ধরা যোগ করা হল।

১১ই মার্চ, ২০১৩:- তিহার জেলে আত্মহত্যা করলো রাম সিং।

৩১শে আগষ্ট, ২০১৩:- গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করলো জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড. তিন বছরের জন্য তাকে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়ত।

১০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩:- মুকেশ, বিনয়, অক্ষয় ও পবনকে দোষী সাব্যস্ত করলো আদালত।

১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩:- চার অভিযুক্তকে মৃত্যুর সাজা।

৫ই মে, ২০১৭:- নির্ভয়াকাণ্ডকে বিরলের মধ্যে বিরল বলে ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের. বহাল রইল মৃত্যুদণ্ড।

৯ই জুলাই, ২০১৮:- তিন দোষীর রিভিউ পিটিশন খারিজ করলো সুপ্রিম কোর্ট।

৭ই জানুয়ারি, ২০২০:- দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট রায় দিলো নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষীর ফাঁসি হবে ২২শে জানুয়ারি।

ফাঁসির সাজা শোনার পর বিশেষ কিছু ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য:-
প্রকাশ জাভরেকর (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী):- নির্ভয়া অবশেষে বিচার পেলেন। দিল্লির আদালত চার অভিযুক্তর ফাঁসির দিন ঘোষণা করে মহিলাদের মনোবল বাড়াল। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের ভরসা বাড়ল।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল (দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী):- দিল্লীবাসীর দীর্ঘদিনের মনোবাঞ্ছা পূরণ হলো। মহিলাদের সাথে খারাপ ব্যবহারকারীরা এর থেকে শিক্ষা নিক। আইন কোনো অপরাধীকে রেহাই দেবেনা।

স্মৃতি ইরানী (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী):- একজন মা তার মেয়ের হয়ে লড়াই চালিয়ে বিচার পেয়ে কতটা স্বস্তিবোধ করছেন, তাবেকজন মা,মহিলা ও মন্ত্রী হিসেবে আমি ভালোই বুঝতে পারছি।

স্বাতী মালিওয়াল (দিল্লী মহিলা কমিশনের প্রধান):- আদালতের রায়কে স্বাগত। দেশের সব নির্ভয়াকে জয় হল। সাত বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া নির্ভয়ার বাবা-মাকে স্যালুট। সাত বছর বড় দীর্ঘ সময়।

সুস্মিতা দেব (কংগ্রেসের মহিলা শাখার প্রধান):- সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন এই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হওয়া উচিত নয়। তাহলে বিচার প্রক্রিয়া আরও বিলম্ব হতে পারে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Comment here