সমবয়সী বিয়ের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক?

ত্রিপর্ণা পাল
(গৃহবধূ, কসবা)

দুবেলা, ত্রিপর্ণা পালঃ আমাদের বর্তমান সমাজের মানুষের মানসিকতা অনেক বদলে গেছে। একটা সময় ছিল যখন একটা ছেলে ও একটা মেয়ে একসাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলা বা একসাথে কোথাও বসে চা খাওয়া ও ছিলো ঘোর অপরাধ।

কিন্তু বর্তমান সমাজে নারী পুরুষের শারীরিক গঠনের পার্থক্য থাকলেও তারা সেই বাঁধা কাটিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ভাবে মেলামেশা করে। আর ঠিক এই ভাবেই চলতে চলতে কখন যে সমবয়সী দুটি ছেলে মেয়ে একে ওপরের সঙ্গে তাদের হৃদয় আদান প্রদান করে ফেলে না বোঝার আগে।

বন্ধুতের সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রণয় সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। আর এর পরবর্তী পর্যায় হলো বিয়ে ও সংসার। যখন তারা বন্ধু বা প্রেমিক প্রেমিকা হিসাবে মেলামেশা করেছিল আর এখন কার সঙ্গে সংসার তা ধীরে ধীরে বোঝা যায় নিজেদের পার্থক্যটা। সংসার মানেই নানা দায় দায়িত্ব নানা রকম অশান্তি তবে সব সংসারেই কম বেশি অল্পবিস্তর অশান্তি হয়ে থাকে।

এখানে যেহেতু দুটি সমবয়সী ছেলেমেয়ে, ফলে দুজনের জেদের মাত্রাও প্রায় সমান। যার ফলস্বরূপ রাগের বসে আচরণের দিক থেকেও শালীনতা হারায়। এর জন্য সমস্যা চরমে পৌঁছালে দুই পরিবারের তরফে দোষারোপ শুরু হয়। সমবয়সী বিয়ের ফলে একে অপরকে তুচ্ছ জ্ঞান করার জন্য এই অশান্তি।

এরপর আস্তে আস্তে চেনা মানুষ কে অচেনা লাগতে শুরু। অনেক সময় বন্ধুত্ব থেকে তৈরী সম্পর্ক ধীর ধীরে কতৃত্বে পৌছায়। ফলে সেটা অপর দিকের মানুষটি অনেক সময় মানতে পারেনা ও সম্পর্কে চির ধরতে থাকে দুজনের মধ্যে। এর থেকে ভালোবাসা টা শেষে দায়সারা অভ্যাসে পৌছায় যার ফল মনের ভাঙ্গন আরো দৃঢ় হয়।

সমবয়সী বিয়ের আরো একটি সমস্যা শুরুহয় কিছুটা বয়সে। শারীরিক সমস্যা থেকেও দূরত্বের সৃষ্টি হয়। সমবয়সী হবার কারণেই দুজনের বয়স যখন চল্লিশ এর কোঠায় তখন মেয়েদের জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট শুরু হয়। এই সময় থেকে সহবাসে অনিচ্ছা, মুড সুইং হওয়া, সন্তান ধারণের অক্ষমতা প্রভিতি সমস্যা তৈরি হয়। এই সময় অনেক পুরুষের মন বাইরে বাঁধা পরে, তৈরী হয় বিবাহবহিঃর্ভুত সম্পর্ক ফলে সংসারে চূড়ান্ত অশান্তির সৃষ্টি হয়। তখন পরিবারের তরফে দোষারোপ করা হয় সমবয়সী বিবাহকেই। বিয়ে মানেই অ্যাডজাস্টমেন্ট সহনশীলতা অনেক বেশি থাকা প্রয়োজন। আর নাথাকলেই সমস্যার আতুর ঘর তৈরি হয়।

দুটি মানুষ যারা এক সময় খুব ভালো বন্ধু ছিলো হাসি ঠাট্টার মধ্যে দিয়ে কাটিয়াছে। তারা বিয়ের পর ও সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করে। ফলে একে অপরের উপর সম্মান বজায় রাখার এই বিষয়টা তৈরী হয়না। আবার স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যদি অনেক বয়সের পার্থক্য হয়। সেক্ষেত্রেও তাদের চিন্তাভাবনা অনেক আলাদা হয় ও তাদের মধ্যে মনের মিল তৈরী হয়না আর তখনি অশান্তি সৃষ্টি হয়। তাই সব থেকে বড়ো কথা হলো দুজনের মধ্যে যদি মানসিক বোঝাপড়া বা বন্ডিং দৃঢ় হয় তাহলে কোনো সমস্যাই সমস্যা নয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment