‌ডিসেম্বর আর বিক্রির মাস নয়, জানান দিচ্ছে সান্টারূপী বুলরা!

দুবেলা, ‌পার্থসারথি গুহঃ ‌একেকটা মাসের একেকরকম তাৎপর্য বা অর্থ তুলে ধরেছেন সাহিত্যিকরা। তাঁদের নানা লেখার মধ্যে মাসগুলি রঙিন হয়ে উঠেছে পাঠকদের কাছে। অর্থবাজারেও এরকম ব্যাপার স্যাপার আছে শুনলে নিশ্চিতভাবে অবাক হবেন লগ্নিকারীরা। তাঁদের বিস্মিত করেই এত অনিশ্চিত ও কাটখোট্টা বাজারও একেক মাসে একেক রকম আচরণ করে থাকে। এই ঘটনা ঘটে চলেছে একবার দুবার নয়, বারংবার। সেজন্যই বোধহয় শেয়ার বিশেষজ্ঞরা ১২ মাসের বারো রকম প্রতিফলন আবিষ্কার করেছে। এর অন্যথা যে হয় না তা নয়। মাঝেমধ্যেই অন্য ধরনের হাবভাব লক্ষ্য করা যায় শেয়ার বাজারে।

সেই অন্য ধারার কথায় না গিয়ে বলা যেতে পারে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের ওপর যেমন বাজেট মাসের শিলমোহর লেগে গেছে ঠিক তেমনই মে-জুন মাস বিক্রির মাস হিসেবে খ্যাত শেয়ার বাজারে। আবার আগস্ট, সেপ্টেম্বর, এপ্রিল এর মতো মাসগুলি কেনার আদর্শ সময় হিসেবে ধরা হয় শেয়ার বাজারে। ডিসেম্বর মাসে যখন শীতের মৌতাতে মেতে ওঠে গোটা দেশ, তখন আবার বিক্রির জোর ঘনঘটা লক্ষিত হতে থাকে। এর প্রধান কারণ ধরা হয় বিদেশিদের ভরপুর বিক্রিকে। আসলে এই সময় অন্তত এক-দেড় মাস বিদেশিরা ক্রমাগত বিক্রি করতে থাকত বলেই বাজার ব্যাপকভাবে পড়ে যেত। সেই পরিস্থিতি এখন অবশ্য অনেকটাই পালটে গেছে। গত ২-৩ বছর বিদেশি এফআইআইদের থেকেও ভারতের শেয়ার বাজারে বেশি ছড়ি ঘোরাতে দেখা যাচ্ছে ডোমেস্টিক বা দেশি মিউচুয়াল ফান্ডকে। সেই ঘটনার প্রতিচ্ছবি পড়ছে অর্থবাজারেও।

ফলে ডিসেম্বর আর বিক্রির মাস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে না। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অন্তত সেই বার্তাই দিচ্ছে। এবারেও ডিসেম্বর শুরুর আগেও ভারতের বাজার যথেষ্ট ইতিবাচক রয়েছে। ২-৩ মাসের মন্দি কাটিয়ে বাজার যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তার সঙ্কেত সবরকমভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বাজারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যা আশ্বস্ত করছে বুল ব্যাপারীদের। আবার যারা বেচে খেলতে অভ্যস্ত তারা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে পারছে না এই প্রেক্ষাপটে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসেম্বরেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল। সেই ফল যার পক্ষেই যাক না কেন, তার রেশ বড়জোর একদিন-দুদিন থাকবে। বিজেপি ভালো করলে বাজার তথা নিফটি ১১ হাজার ছাপিয়ে ট্রেড করতে পারে। আর ফল শাসক দলের বিপক্ষে গেলে কিছুটা পড়তে পারে সূচক। তা বলে বিরাট কোনও হেলদোল ঘটে যাবে না। পরবর্তী রসদ অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে আরম্ভ হওয়া কোম্পানি গুলির তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নজর থাকবে সকলের।
‌সেই ফলাফল পর্ব যদি প্রত্যাশার কাছে থাকে তাহলে বাজারের আর খুব পিছু হটার কথা নয়। তবে মাঝেমধ্যে যে সূচক থমকে যাবে না তা কিন্তু নয়। অত মসৃণ হবেও না চলার পথ। তাও এর মধ্যে চলতে চলতে, হার্ডলসের পাহাড় ডিঙিয়ে বাজার ক্রমশ মজবুত হবে। ভারতের শেয়ার বাজারে নিশ্চিতভাবে একটা প্রভাব পড়বে সামনের লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে। কারণ, কোনও অবস্থাতেই অর্থবাজার যে জগাখিচুড়ি সরকার পছন্দ করে না তার প্রমাণ মিলেছে আগেও। বাজার চাইবে স্থায়ী সরকার ও দশদলীয় কোলাজমুক্ত সিদ্ধান্ত রূপায়ণকারীদের। তাও যে কোনও খারাপ পরিস্থিতি জুঝে নেওয়ার মতো নীলকণ্ঠ ভারতের শেয়ার বাজার হয়ে উঠেছে, এটা কিন্তু বুঝতে হবে। এতকিছু বুঝেই এখন থেকে লগ্নিতে যেতে হবে। যা আপনার আমার পুঁজিকে অনেকটাই সুরক্ষিত করে তুলবে। পরিকল্পনা ও আগাম নকশা এমনভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে যা অন্যদেরও পথ দেখাবে সমানভাবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment