শেয়ার বাজারঃ হেইকিন আশি!

দুবেলাঃ যারা দিকে খেয়াল না রেখে, বলা যেতে পারে একেবারে অন্ধভাবে সওদা করতে চান তাদের জন্য হেইকিন আশি চার্টের জুড়ি মেলা ভার। শুধু কোনও একটা ট্রেন্ডে ঢুকে যেতে পারলেই হল। আসলে হেইকিন ক্যান্ডেল বা বারগুলোও নির্দিষ্ট দামের গড় দিয়ে তৈরি । পূর্ববর্তী বারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক একটি বার দাঁড়িয়ে থাকে । কাজেই চার্ট দেখে প্রকৃত দাম জানতে পারবেন না। যা দেখবেন সবই গড় অঙ্ক। স্বাভাবিক ভাবে মুভিং অ্যাভরেজে ট্রেড করার মতোই বিষয়টা বেশ সোজা। কী রকম? সাধারণ চার্টের মতো অত উত্থান পতন বোঝার বালাই নেই। সবুজ বার তো ক্রমাগত সবুজ, লাল তো লাল। অর্থাত উত্থান বা পতন অব্যাহত রয়েছে কি না, তার নিশ্চিয়তা দিতে দিতেই এগোতে থাকে একের পর এক বার । বার যখন গিরগিটির মতো রঙ পরিবর্তন করতে শুরু করবে তখনই সওদা ছেড়ে চম্পট। সওদা করবেন কী ভাবে?

১. সবুজ বার দেখলেই কিনবেন। লাল বার দেখলেই বিক্রি।

২. ছোট বার যার ওপরে নিচে দাঁড়ি রয়েছে, তা ট্রেন্ড বা গতিধারা পরিবর্তনের সঙ্কেত দেয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে সবুজ বার এবং তার ওপরের দিকে দাঁড়ি থাকলে আপ ট্রেন্ড বা উর্ধগতি নিশ্চিত করে। আর লাল বার হলে শুধুমাত্র তার নিচে দাঁড়ি থাকলে নিম্নগতি। অর্থাত এই দুটি সময়ে সওদায় প্রবেশ ও প্রস্থানের পালা ।মনে রাখবেন, গোটা বার গঠন হওয়া অবধি সবুর করতে হবে।

৩. যতক্ষণ সবুজ বারের শুধুমাত্র ওপরে দাঁড়ি এবং লাল বারের নিচে দাঁড়ি ততক্ষণ অাপ ও ডাউন ট্রেন্ড বা গতি অব্যাহত। অর্থাত সওদা জারি থাকবে, যতক্ষণ না ছোট বারের ওপরে নিচে দাঁড়ি না তৈরি হয়।

৪. গড়পড়তা বারের থেকে বিসদৃশ রকম লম্বা বা বড় বার হলে সতর্ক থাকুন। বিশেষত সবুজ বারের ওপরের দাঁড়ি এবং লাল বারের ক্ষেত্রে নিচের দাঁড়ি যদি অত্যাধিক লম্বা হয়, তা হলে জানবেন মধুচন্দ্রিমা শেষ হতে চলেছে। তখন চলতি গতিপথে আর বেশিক্ষণ দাম থিতু হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থাত আর অপেক্ষা না করে লাভ নিয়ে চম্পট দেওয়ার পালা।

চর্চা করতে থাকুন। অবশ্যই ইচ্ছে থাকলে । চর্চায় খাতিরে আগামি কয়েক দিন জএসডব্লু স্টিলকে একবার পরখ করে দেখতে পারেন ।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Related posts

Leave a Comment