সেদিনের চোখের জলে ভিজল ২০১৮ বিশ্বকাপ !

শুভ ভট্টাচার্য্যঃ আজ যেখানে বিশ্বকাপের বিশ্বযুদ্ধের উৎবোধনের জন্য আলোর খেলা চলছে। সেই লুজনিকি স্টেডিয়ামে এক দিন নেমে এসেছিল অন্ধকার । প্রান গিয়েছিল বহু মানুষের। ভারতীয় সময় অনুযায়ী ৮.৩০ থেকে যেখানে উৎবোধনি ম্যাচ খেলবে রাশিয়া আর সৌদি আরব সেই প্লে গ্রাউন্ড একদিন ভিজেছিল চোখের জলে ।

সময়টা ১৯৮২ সাল। সেদিন ছিল উয়েফা কাপের দ্বিতীয় পর্বের একটি ম্যাচ। রাশিয়ার এফসি স্পার্টাক সেদিন খেলতে নেমেছিল ডাচ ক্লাব এইচএফসি হারলেমের বিরুদ্ধে৷

ম্যাচ তখন প্রায় ৯০ মিনিট হবে হবে করছে ।সে সময় যাতে ভীর এরানো যায় তার জন্য গ্যালারী থেকে সবে বেরতে আরাম্ভ করেছে। অন্যদিকে ঠিক তার আগের রাতে স্নো-ফল হওয়ার জন্য গ্যালারীর সিঁড়িও ছিল দারুন পিছল। দর্শকদের বাড়ি ফেরা ও মেট্রো ধরার তারাহুরতে প্রান যায় ৬৬ জন ফুটবল প্রেমী মানুষের। তাড়াহুড়োর করতে গিয়ে মাঠের বাইরে বেরন সিরিতে পরে যান অনেকে । বাকি দের ঘরে ফেরার যে হুজুক ছিল তাতে যারা পড়ে গেছেন তাঁদের দিকে সেরকম কেউ লক্ষ্য করেননি। যার ফলে পদপৃষ্ট হয়ে যান । পাপাশি বহু দর্শক আহত হন।

২০১৮ ১৪ জুন নাচে,গানে আনন্দে মাতোয়ারা থাকলেও সেদিনের সেই ঘটনা আজও মনে করিয়ে দেয় । যখন বিশকাপের মতো বড় খেলা হয়। রাশিয়ার ইতিহাসে সেদিন ছিল কান্না ভেজা। যদিও এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহ্যও জড়িয়ে রয়েছে৷ ১৯৫৬ সালের ৩১ জুলাই এই স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু৷ তার আগে ১৯৫৫ থেকে ৫৬ সালের মধ্যে টানা সাড়ে চারশো দিন ধরে এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়৷

১৯৫২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায়  অলিম্পিকে ভালো ফলাফল  করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ তার পরই এই স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়৷ পরবর্তী কালে  মস্কোতে গড়ে ওঠে একটি গ্র্যান্ড স্পোর্টস এরিনা৷ তার ঠিক মাঝখানে এই স্টেডিয়াম অবস্থিত৷ গোড়ার দিকে এটার নাম ছিল সেন্ট্রাল লেনিন স্টেডিয়াম৷

সময়টা ১৯৮০ সাল। এই স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল মস্কো অলিম্পিক৷ শেষও হয়েছিল ।২০১৮ এর ব্যতিক্রম নয় ।উদ্বোধনী ম্যাচের মতো এখানেই এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে৷ এছাড়া একটি সেমিফাইনাল, একটি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ও তিনটি গ্রুপ লিগের ম্যাচ হবে এই লুজনিকি স্টেডিয়ামে

আর এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনের জন্য দীর্ঘদিন খেলাও বন্ধ ছিল এখানে৷ ২০১৩ সালের মে মাসে এখানে শেষ ফুটবল ম্যাচটি হয়েছিল৷ তার পর অগস্টে আইএএএফ অ্যাথলেটিক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়৷ এর পর শুরু হয় বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়াম সাজানোর কাজ৷ ২০১৭ সালে শেষ হয় সেই কাজ৷ নতুন ভাবে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ হয় ওই বছরের ১১ নভেম্বর৷ সেটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল৷ সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্তিনা ও রাশিয়া৷

আগে এই স্টেডিয়ামে ১ লক্ষের বেশি দর্শক আসন ছিল। কিন্তু ১৯৯০ সালে টা কমিয়ে আনা হয় ৮০,হাজারের কিছু বেশি আসনে। তবে এফসি স্পার্টাকের সেই ম্যাচেও প্রায় এক লক্ষ লোক উপস্থিত ছিলেন৷ সেদিনের সেই মর্মান্তিক ম্যাচের পরও ওই স্টেডিয়ামই ছিল স্পার্টাকের হোম গ্রাউন্ড৷ তবে ২০১৪ সালে নিজেদের স্টেডিয়াম তৈরি করে নেয় তারা৷ যদিও সেই মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও দগদগে স্পার্টাক সমর্থকদের মনে৷।

Spread the love

Related posts

Comment here